সত্তরের দশকের শেষ পর্যায়ে চিত্রশিল্পী শহিদ কবীর বাউল সাধক লালনের গানে প্রবলভাবে আলোড়িত ও আন্দোলিত হয়েছিলেন। সে-সময়ে তাঁর চিত্র সৃষ্টিতে লালনের গানের মর্মবাণী বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয
লোকসংস্কৃতির অনুরাগী অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) ছিলেন মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের (১৯০৪-৮৭) প্রিয় সুহৃৎ, গুণগ্রাহী ও সহমর্মী। দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ ও আলাপ ১৯৩১ সালে, রাজশাহী জেলার মহকুমা-শহর ন
চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র শতবর্ষপূর্তি। উপলক্ষটি সারা দেশে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে বলে আশা করা যায়। বর্তমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব
ফরাসি লেখক জুল রেনার (Pierre-Jules Renard:1864–1910) তাঁর দিনলিপিতে লিখেছিলেন, ‘প্রতিভার প্রশ্নটি পরিমাণ-সংক্রান্ত। প্রতিভা একটি মাত্র পৃষ্ঠা লিখেই ক্ষান্ত থাকে না : লিখে ফেলে তিনশো পৃষ্ঠা। এমন কোনো উপন্যাস
(১৯শে আগস্ট, ১৯৩৫ – ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৭২) জহির রায়হান কীর্তিমান কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার। এই দুটি পরিচয় ছাড়াও গীতিকার, সম্পাদক, প্রযোজক, শিক্ষকসহ আরো অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তবে দুঃ
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদ সিলেট। ওই অঞ্চলের ছাপাছাপির ইতিহাস অভিনব। বৃহৎবঙ্গে (পাক-ভারত বিভক্তিপূর্ব বাংলা) উনিশ শতকের গোড়ায় বাংলালিপির মুদ্রণ চালু হলেও সিলেটে ছিল এর ব্যতিক্রম। ই
প্রায় চারশো বছর আগের কথা। সতেরো শতকের আমস্টারডামের এক অভিবাসী-পল্লি। হেমন্তের এক বর্ণিল দিনে মিখাইল স্পিনোজা আর হানা ডেবোরাহ দম্পতির ঘরে এলো দ্বিতীয় পুত্র। মা হানা আদর করে সন্তানের নাম
বাণী একটা ভারি পদ। আবার মানুষের সৃষ্টির সঙ্গে এর জন্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুখের কথা বাণী। বাণী বিদ্যাদেবী সরস্বতী। যাকে আমরা বীণাপাণিও বলে থাকি। বাণী বলতে সাধারণত বুঝি কোনো গুণীজন বা উচ্চ
তরু পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। শিশুবেলাটা আনন্দেই কেটেছে। যেই একটু বড় হলো, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, যন্ত্রণাটা তখন থেকে শুরু। স্কুল বন্ধ। নির্জন দুপুরে জানালার ধারে বসে তরু একটি বই পড়ছে। ক
মোমিন সাব নাকি একলা মানুষ! বিজন, এক ভাবের মানুষ? মানুষটার ঘরভর্তি স্ত্রী, পুত্র, নাতিনাতকুর, আত্মীয়স্বজন, ভাই-বেরাদর। গুষ্টি-ইষ্টি-পড়শি। সেই মুরুব্বি একলা কেমনে? সত্য, ঘরভরা স্বজন, হইহল্লা।
সকালহাঁটাটা ডিসি হিল পার্কেই সারেন অখিলেশবাবু। বাহাত্তর পেরোনো বয়স। বাহাত্তরের থুত্তুরে বুড়া – এই কথাটি অখিলেশবাবুর জন্য খাটে না। জমাটবাঁধা শরীর না হলেও পেশিগুলো ঢিলেঢালা হয়ে যায়নি
এখানে এসেই থেমে পড়ে সামিউল। প্রায় তিরিশ মিটার দূরের বাড়িটি ইথারে অদ্ভুত নিশ্চুপ কণ্ঠে ডেকে যায়। ‘আয় সামিউল, এখানে আয়। আয় রে।’ সামিউল সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে থাকে ক-মুহূর্ত। তারপর পু
এক ফ্লাইওভার এই তল্লাটে নতুন এসেছে। ফ্লাইওভার আসার আগে এখানে শুধু রাস্তা ছিল – মাটির ওপর দিয়ে চলা একটা সরল জিনিস, যেখানে হাঁটতে গেলে পা লাগত মাটিতে, চোখ পড়ত সামনে, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের
রাতে খাবার সেরে স্ত্রীর হাতে যত্ন করে বানানো পানটা মুখে পুড়ে নতুন কেনা সোফায় হেলান দিয়ে হোসেন আলী বলে, ‘কী, কেমন লাগতাছে, ভালা না?’ স্বামীকে দেওয়ার পর এবার নিজের পানটা মুখে চালান করে দিলো
ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! অকস্মাৎ একদলা ঘৃণা আমার গায়ে এসে না পড়লে আমি বোধহয় কখনোই এ-গল্প লিখতে বসতাম না। যদিও চার বছর ধরে সময়ে-সময়ে রাগ, ঘৃণা, অপমানের নানা ছিটেফোঁটা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পেয়ে এ
এই যে এখানে এলে বাদামের খোসা পেলে অবশিষ্ট হাতে যাকে ভাবলে বাওবাব সে একটি নৈশ ক্লাব ফুরায় প্রভাতে সকালে এমনই তোর তৈরি হয়েছিল ঘোর কীভাবে বেরোবি নতুন বর্ষ আসে ডোবা তাতে পোকা ভাসে বিধ্বস্ত ছব
আমার মৃত্যু হলে ভাববে সব চুকেবুকে গেল আমি আর থাকবো না কোথাও, কিন্তু আমি তো যাবো না এই লোকালয় ছেড়ে – শূন্য কফিন নিয়ে আমাকে গোর দিতে যাবে তোমরা অঝোরধারায় বৃষ্টি ঝরবে তোমাদের চোখের অশ্রু আর
অবহেলায় পড়ে থাকা কফি-কাপ আমাকে নাড়িয়ে দিলো তা শুধু স্মৃতি নয়, বরং এমন গল্প যা ফুরায় না কোনোদিন – আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এত নিঃসঙ্গ পড়ে আছো কেনো কাপ নড়েচড়ে বসলো – আর শুরু করলো অবরুদ্ধ
– সীমাবদ্ধ গল্পের ভেতরে থেকে জীবনের মহিমা বুঝবে না। এর জন্যে প্রয়োজন উড্ডয়ন, প্রতিকারহীন সর্বজাল ছিন্ন করা অহমিকারিক্ত এক নম্র অভিযান, অভিমান-পরিত্যাগী বেদুইনের পরম যাত্রা-পথ – বৃত্তভা
ইটবাঁধানো কষ্ট নিয়ে বসন্ত এলো, কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ঘরে! বসন্তের অন্তরা খুলে ঘনিষ্ঠ হবো অন্তরাত্মা শান্তি পাবে বলে আমিও সবুজের মূলধন নিয়ে নিজের হৃদয়ে সম্পাদকীয় লিখতে চেয়েছিলাম! কিন্
ভালোবাসানিঃশর্তহোক যেমননিঃশর্তহয় ভোর জলপতনেরধ্বনি। সবাইনিসর্গেযাবে যেমননিঃশর্তযায়নদী বীজপাতাখুলেদিয়ে যেমনউদ্ভিদ হৃদয়েধরিত্রীমাখে। যেটুকুধরেছোতুমি লুকোছাপা-খেলাদুইহাতে তার
ঈশ্বর আছেন অথবা ঈশ্বর নেই – এ দুই এর মধ্যে ঝুলে আছি ঘড়ির পেন্ডুলাম হয়ে অথচ নিতান্ত মূর্খ এক হাটুরে বললো, দৃষ্টিগ্রাহ্য সবকিছুই বিশ্বাস করতে নেই, তেমনি অদৃশ্য যা কিছু, সবটুকু মিথ্যাও নয় আছ
কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে শীতের রোদ্দুর গায়ে মাখি। তারপর ফিরে আসি কাঠবাদাম গাছের নিচে। মিষ্টি বউদি এসে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে আমাকে দেখেন। যেন আমি কোনোদিন একা একা কপোতাক্ষপাড়ে আসতে পারি না। যে
একটুখানি পানি জমতে শুরু করেছে কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ। ডিপ কালারের একটি স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাত বারোটার কিছু আছে বাকি; এই থাকা অর্থহীন নয়। চলো, উপলব্ধি করি কুয়াশা মোড়ানো এক ব
ভুল পথে হেঁটে হেঁটে তোমার বাগান ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি। কুয়াশার অন্ধকারে-ঢাকা দীর্ঘ পথ। কেউ জানে না, বাগানবাড়ির ঠিকানা; তবে কী সব ফুল ঝরে গেছে? এখন এক বিষবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে আছি একা সব
মেয়েটা সিগ্রেট খায় কজন পুরুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় সে হাওয়া থেকে সুখপ্রদ ধারণা গিলে নিচ্ছে সে হাওয়া থেকে নিকোটিনের স্বাধীনতা খেয়ে নিচ্ছে লাল রঙের লম্বা নখের ফাঁকে বেনসনের অফ হোয়াই
বকুল ফুটেছে কোথাও, বুঝি শোনা যায় পদধ্বনি বসন্তের এইখানে ধূলি-ধূসরিত পথ, বাতাস এখানে ভারী মৃদু ক্রন্দনে ঝরাপাতাদের। অবশিষ্ট কিছু শীত হচ্ছে জড়ো সন্ধ্যায় গোল হয়ে আগুন পোহাবে বলে ছোট একটা
পূর্ণিমার এক রাতে সুরমার বুকে নেমে এসেছিল চাঁদ – একাকী, মায়াবী, নিঃশব্দ দীপ্তি। হঠাৎ ছায়ামানবেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূত? না, প্রেতাত্মা! আদতে ওরা চাঁদটাকেই খেতে এসেছিল সুরমার জল ঘোলা করে। শেষত
ওরা আনন্দিত কণ্ঠে বললো – কবি আপনি আমাদের এখানে এলে আমরা আপনার জন্যে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো! আমি বিষণ্ন স্বরে বললাম – গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নয় গো! ছোট্ট একটি ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকো!
আপন নিউক্লিয়াস মধ্যমণি, নিজ বৃত্তপথ ঘোরাঘুরি বাতাস ভারি আত্মরতির রোলে চোখ অন্ধগলি, দেখে না পড়শি বটপাতাদের রংবদল স্থির নদ, ঢেউ তোলে না পাশে দাঁড়ানো ‘মরিয়মে’র নোনা জল মাথা রাখে না কেউ কার
আধুনিক বাংলা ছড়াসাহিত্যের এক অনন্য সাধক সুকুমার বড়ুয়া (১৯৩৮-২০২৬)। প্রায় পঁয়ষট্টি বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়াসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি। বাংলাদেশে এত দীর্ঘকাল নিবিষ্ট ছড়াসা
ইন্ডাস্ট্রি শব্দটার ‘শিল্প’ ছাড়া আর কোনো ভালো বাংলা জানা আছে কি আমাদের? ইংরেজিতে I Ndustry বলতে যা বোঝায়, Art বলতে তো তা বোঝায় না। তবে বাংলায় এই দুটোকেই ‘শিল্প’ শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় বলে
ভ্রমণে মানুষের জিজ্ঞাসার জট খোলে। অজানাকে জানা যায়। প্রশান্তি তো আছেই। প্রকৃতির কোন উপকরণ ভ্রমণপিপাসুকে বেশি টানে – সে-বিষয়টি ভ্রমণের স্থান নির্ধারণের নির্ণায়ক শক্তি। অনেক সময় দ্বি
এক পুত্র বিবাহযোগ্য। তাকে কি আর দামড়া হয়ে ঘুরতে-ফিরতে দেওয়া যায়? নাসিমের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। মাতার এই ইচ্ছাটাই প্রবলভাবে সংক্রমিত হয় দাদির মধ্যে। তবে তার চেয়েও বোধ হয় বেশি ব
বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথম মানুষ অনুভব করল, এত অর্জন আর সমৃদ্ধি সবকিছু জলাঞ্জলি হতে পারে মহাবিশ্ব বিকাশের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে ব্যর্থ হলে এবং মানবসমাজে নিজেরা পরস্পরকে বুঝতে অসমর্থ
বাংলাদেশের নাট্য-আন্দোলনকে যারা গতিশীল করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মমতাজউদদীন আহমদ (১৯৩৫-২০১৯)। তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক। মঞ্চের জন্য মৌলিক ও রূপান্ত
