চিত্রশিল্পী নাইমা হক শিশুতোষ চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিক ডিজাইনে বিশেষ দক্ষতার জন্য সুপরিচিত। তাঁর পেনসিল স্কেচ ও সংবেদনশীল বর্ণ ব্যবহারে মূর্ত হয়ে ওঠে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক বাস্তবতা ও রাজ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৮)-পরবর্তী সময়ে বাংলা কবিতায় বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দেশে ঘটে গেছে সামাজিক বিপর্যয়। এর প্রভাব স্বাভাবিকভাবে এসে পড়েছে আমাদের শিল
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ সালে, কাঁচড়াপাড়ার কাছে মামাবাড়ি মুরাতিপুর গ্রামে (অবিভক্ত বাংলার যশোহর জেলায়)। তাঁর পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতা মৃণালিনী দেবী। বিভূতি
‘মাজহার, জেগে আছো? কথা বলা যাবে? অনেক দিন কথা হয় না!’ রাত বারোটা থেকে দুটার মধ্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের পাঠানো এমন অসংখ্য বার্তা এখনো আমার ফোনের ইনবক্সে জমা আছে। আমারও যখন কথা বলতে ইচ্ছ
অধ্যাপক সুনীতিভূষণ কানুনগো চট্টগ্রামের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগকে অভিনবপন্থায় উপস্থাপন করেছেন নানা নামে, মাত্রায় ও আঙ্গিকে। কথায় আর লেখায় তো বটেই, প্রাণেও ধারণ করেছিলেন তিনি চট্টগ্
মামাবাড়ি ঝামটিয়া আমার ব্রজভূমি হলেও অস্বীকার করতে পারব না যে সবলসিংহপুর ছিল মথুরা। এটা রাজধানী। ওটা বাগানবাড়ি বা বৃন্দাবন। ঝামটিয়ায় খেলার সাথি সারাক্ষণের জন্য ছিল ছোট ভাইয়েরা। আর
সকালবেলা বাথরুম থেকে ডালিয়ার চিৎকার – এই ডিউক তুমি কমোডের সিট ভিজাইয়া কেন রাখসো? এত্তবার বলি, বাথরুমের পর কমোডের সিটটা টিস্যু দিয়ে মুছে দিবা। ভিজা কমোডের সিটে আমি কেমনে বসব? আমার গা ঘিনঘি
মানুষের ভালোবাসা আসলে একটি মুখোশ। তা না হলে অসীম আবেগে যখন সে তার প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে, তখন হয়তো তার পায়ে একটা পিঁপড়া থেঁতলে গেল। সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। খুনি সন্তানের প্র
২০২৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ক্লার্ক(John Clarke), ইয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিশেল হেনর
বানু মুশতাক কর্ণাটকের কন্নড় ভাষার একজন প্রখ্যাত লেখক, আইনজীবী ও সমাজকর্মী। তাঁর লেখায় প্রান্তিক মানুষ, বিশেষ করে নারীদের নীরব সংগ্রাম ও সামাজিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র উঠে আসে। প্রগতিশীল
সিতপুষ্পের পাশ-ঘেঁষে পথ চলি দেখি বড়বেশি ম্লান-মুখ তার অবনত মাথা – শরীর দুভাঁজ এই গ্রহণের দিনে – ভূমি থেকে জল সরে গেছে বহুদূর কে জানে তা গেছে কিনা দৃষ্টির অগোচরে অসীম সুদূরে – আদরে-সোহাগে তাক
মেহরিন, এই হৃদয় নিয়ে আমার অহংকারের দিন শেষ যেদিন অপরের হাতে তাকে তুলে দিতে হলো। মেহরিন, কত মুক্ত আর স্বাধীন ছিলাম, মনে পড়ে কিন্তু আজ তোমার সাথে দেখা হওয়ার পর কারাগার নির্ধারিত হয়ে গেল। ম
পূর্ণ হলো না পাত্র। সত্য হলো দীর্ঘশ্বাস। অসময়ে অকালেই নিভে গেল দীপ। এম্ফিথিয়েটারে শুধু প্রতিধ্বনি শূন্যতা-রোদন। হাহাকার বেজে ওঠে, বীণা হয় হৃদয়বন্দিশ। হৃদয়তন্ত্রীতে গাঙে গহিনে বিষা
হেমন্তের শূন্যভাঁড়ারে শস্যকাটা হয় না তবু বৈনাশিক ঝড় আর্তনাদ করে! ভেসে যায় এলোমেলো ভাসান জলে – আধকাটা শস্যের ভাঁড়ার পূর্ণ হবার আগেই থমকে থাকে জলের কিনারে! হাহাকারে শোকার্ত চাঁদ কান্না
তুমি নও শুধু ছবি; নিঃশব্দ নিিদ্র ঘরে অমাবস্যার রাতের জোনাকি দুখিনী – কাদম্বরী নন্দনকাননে ঝরা পত্রালী, শুকনো ডাল, হরিদ্রাভ ঘাস। ওরাও ক্রন্দসী বিবর্ণ প্রভায়; থেমে গেছে মিলন স্মৃতির মূর্ছায়
(সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর গোধূলিস্বরে আকাশ বলেছিল, ‘ছাপাবার আগে দেখিয়ে নিতে হবে।’ শীতার্ত স্বরের নির্দেশনা : ‘নীল কাগজে স্তম্ভিত সাদা মেঘ, পাশে প্রথম সকালের সূর্য, মাঝখানে স্বাধীনতাস্তম্ভে
দুর্গম পাহাড়ের অনেক ভেতর থেকে শীত আসে আমাদের লোকালয়ে গভীর জঙ্গলের অন্ধকার গর্ত থেকে শীত আসে আমাদের খামারবাড়িতে আমরা কে কতটা বাবু হয়ে উঠেছি নিজস্ব ভঙ্গিতে, তা দেখতে শীত আসে। শীত আমাদের
বিন্দু বিন্দু করে জমানো যে ধন হতে পারে, বুকের গভীরে তার বাস দেখেনি তা কেউ কোনো দিন, দেখবে না দৃশ্যমান না হলে তা অদৃশ্যই থাকে পুষে রাখি, ঢেকে রাখি অগোচরে এই – মানুষের চিলচক্ষু থেকে, গোপনে। আমার এ
মুল্লুকযাত্রা বদরুন নাহার – ঐতিহ্য ঢাকা, ২০২৪ – ২৭০ টাকা চারাগাছের নূতন পাতা সবুজ বরণ টিলা লো কালো লুগা (কুলি কামিনদের নিম্নাঙ্গের আভরণ) সাফা নইলে ভাল কি আর লাগে লো ওরে পেটে নাই রে খানি তাই খা
সমসাময়িক নারীবাদী সাহিত্য নারীর শরীর, মানসিক জগৎ ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বিদ্যমান সূক্ষ্ম ক্ষমতাসম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। গৌরাঙ্গী কামানীর ‘Waxing the Thing’ গল্প সেই ধারারই একটি গুরু
সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম (১৮ই জানুয়ারি ১৯৫১ সালে) সিলেট শহরে। ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আমার ছাত্র ছিল। সরাসরি, ক্লাসরুমের ছাত্র। ছাত্র হিসেবে সে যে ছিল অত্যন্ত মেধাবী সেটা বিভাগের সকল শিক্ষকই জানতেন, অজানা ছিল না আমারও। অনার্স ও এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথ
মনজুর যে আমাদের কত কাছের মানুষ ছিলেন, তা নতুন করে অনুভব করতে পেরেছি চিরতরে চলে যাওয়ার আগে তাঁর এক সপ্তাহকাল হাসপাতালে থাকার সময়ে। প্রায় প্রতিদিনই অন্তরের টানে হাসপাতালে গিয়ে কিছুক্ষণ
আমি চারুকলায় পড়াশুনো আর খানিক কর্মজীবনের কারণে গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকে প্রায় বছর আট-নয়েক টানা ঢাকায় ছিলাম। তখন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে চিনতাম না। তিনি আমার চেয়ে বেশ কয়েক বছরের ছোট,
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম – যাঁকে তাঁর ছাত্র, বন্ধু ও সহকর্মীরা ভালোবেসে এস.এম.আই. বলে ডাকতেন – তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমার এক বছর সিনিয়র ছিলেন। এমন অবস্থায় যেম
ইংরেজি বিভাগে আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে খুব বেশি সময় শিক্ষক হিসেবে পাননি। দ্রুতই তিনি গবেষণার কাজ নিয়ে সম্ভবত কানাডায় চলে যান। তখন তাঁর চুলে বাবড়ি, সোনালি ফ্র
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দালিলিকভাবে আমার চাইতে পাঁচ বছরের ছোট। ‘দালিলিক’ শব্দটি ব্যবহার করছিএ-কারণে যে, আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একই বিভাগে পাঁচ বছরের তফাতে পড়
চলতি বছর ১০ই অক্টোবর আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন একজন যশস্বী শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজ
খুব কাছের সবাই সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে ‘মনজুরভাই’ বলতেন। আমি ‘র’টা বাদ দিয়েছিলাম। বলতাম ‘মনজুভাই’। কেন বলতাম তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ব্যাখ্যা আবার একটু আছেও। বলতে ভালো লাগত। ওই নিয়ে তিনি
মাস্ক পরে দাঁড়ালাম ১২ নম্বর বেডের সামনে। ধানমণ্ডি ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ১-এর (সিসিইউ ১) ভেতরে কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসকও পাশে দাঁড়ালেন। কোনো অধ্যাপক কিংব
সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘দুর্গাকুমার পাঠশালা’য় না পড়লেও এর প্রতি আমি কেমন এক আকর্ষণ বোধ করি। এর একটিই কারণ – এই পাঠশালা উনিশ শতকের সিলেটের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ দু
‘কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাহাড়ের মতো ভারী, আর কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাখির পালকের মতো হালকা।’ মহামতি মাও সে তুং-এর বলা এই কথাটির সত্যাসত্য জীবন-পথপরিক্রমায় হাড়েমজ্জায় অনুভব করেছি। অত্যন্ত ক
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চলে গেলেন। চলে গেলেন আক্ষরিক অর্থেই অকালে। এই যুগে ৭৪ বছর কি বিদায় বলার মতো কোনো বয়স? ৩রা অক্টোবর সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন দেশে তিনি কার্যত একা।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আমাদের মাঝে নেই! না না! এটা কী করে সম্ভব! এই সেদিনও তিনি খবরের কাগজ-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। কী চমৎকার কথা খবরের কাগজ সম্পর্কে বলল
নব্বইয়ের দশকে, মানে ১৯৯২ সাল থেকে, আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়তে শুরু করলাম, বিভাগের তখন স্বর্ণযুগের মধ্যম পর্যায় বলা যায়। কারণ এর আগেরও খুবই উজ্জ্বল সময়ের গল্প চা
২০০৭ সালের আগস্টে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কবি পিয়াস মজিদ। সেই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছিল সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাসহ দেশ-বিদেশেরসাহি
বছর পাঁচেক আগে গল্পকার কুলদা রায়কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর শৈশবে দেখা এক গল্পকথকের কথা বলেছিলেন। সেই গল্পকথক এক বয়স্কা হিন্দু বিধবা, যাঁকে তিনি ও তাঁর সহপাঠ
মঙ্গলবার যথারীতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এসেছিলেন কালি ও কলম অফিসে। ছিলেনও অনেকক্ষণ। তারপর বেলা ১টার দিকে চলে গেলেন – যেমন সবসময় যান। এমনটাই হয়ে আসছে। আমরা জানতাম – আগামী মঙ্গলবার মনজুর আবা
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে শুধুই স্মৃতি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকতুল্য। আমাদের একান্ত কাছের লোক। কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন তিনি। সপ্তাহান্তে দু-একবার দেখা হতো তা
