সিটি ব্যাংক-নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫
তরুণদের সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহ প্রদান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে মাসিক সাহিত্যপত্র কালি ও কলম ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর প্রদান করে আসছে ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’। এই পুরস্কার বাংলাদেশে তরুণদের জন্য প্রবর্তিত সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার। পুরস্কারটির অর্থমূল্য দুই লক্ষ টাকা। সাহিত্যের পাঁচটি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৬৭ জন তরুণ […]
সত্তরের দশকের শেষ পর্যায়ে চিত্রশিল্পী শহিদ কবীর বাউল সাধক লালনের গানে প্রবলভাবে আলোড়িত ও আন্দোলিত হয়েছিলেন। সে-সময়ে তাঁর চিত্র সৃষ্টিতে লালনের গানের মর্মবাণী বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল। টেম্পেরায় করা বাউল সিরিজের এসব চিত্রে বাউল সংগীতের অচিন প্রেম ও মানবিক বোধের উজ্জ্বল প্রকাশে চিত্রানুরাগীরা বিমোহিত হয়েছিলেন। শিল্পের বৃহত্তর জগতে নিজের শিল্পসাধনাকে ব্যাপৃত করার ইচ্ছা নিয়ে চারু ও […]
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন –‘হারামণি’র সন্ধানে নিরন্তর যাত্রা
লোকসংস্কৃতির অনুরাগী অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) ছিলেন মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের (১৯০৪-৮৭) প্রিয় সুহৃৎ, গুণগ্রাহী ও সহমর্মী। দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ ও আলাপ ১৯৩১ সালে, রাজশাহী জেলার মহকুমা-শহর নওগাঁয়। অন্নদাশঙ্কর এখানে ছিলেন মহকুমা শাসক আর মনসুরউদ্দীন স্কুল সাব-ইন্সপেক্টর। তাঁদের আলাপ ও ঘনিষ্ঠতার মূলে ছিল লোকসংস্কৃতি। সম্পর্কের সূচনা হয় মনসুরউদ্দীনের তরফ থেকে তাঁর সংকলিত-সম্পাদিত লোকগীতিসংগ্রহ হারামণি (১৩৩৭) উপহার দিয়ে এবং […]
শতবর্ষ স্মরণ –মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার মুখপত্র শিখা একটি আনুপূর্বিক পর্যালোচনা
চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র শতবর্ষপূর্তি। উপলক্ষটি সারা দেশে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে বলে আশা করা যায়। বর্তমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় এই উপলক্ষটি এবার এক নতুন আবেদন বা বাড়তি মাত্রা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ‘সাহিত্য-সমাজে’র নেতৃস্থানীয় চিন্তক এবং অন্য যাঁরা কমবেশি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, গত শতকে বাঙালি মুসলমানেরবুদ্ধিবৃত্তিক-সাংস্কৃতিক […]
সৈয়দ মুজতবা আলীর পরাক্রান্ত শিল্পদৃষ্টি
ফরাসি লেখক জুল রেনার (Pierre-Jules Renard:1864–1910) তাঁর দিনলিপিতে লিখেছিলেন, ‘প্রতিভার প্রশ্নটি পরিমাণ-সংক্রান্ত। প্রতিভা একটি মাত্র পৃষ্ঠা লিখেই ক্ষান্ত থাকে না : লিখে ফেলে তিনশো পৃষ্ঠা। এমন কোনো উপন্যাস নেই যা সাধারণ বুদ্ধি দ্বারা কল্পনাসাধ্য নয়; এমন কোনো বাক্য নেই, তা যত সুন্দরই হোক না কেন, যার নির্মাণ সম্ভব নয় কোনো প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পক্ষে।’ তিনি মনে […]
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদ সিলেট। ওই অঞ্চলের ছাপাছাপির ইতিহাস অভিনব। বৃহৎবঙ্গে (পাক-ভারত বিভক্তিপূর্ব বাংলা) উনিশ শতকের গোড়ায় বাংলালিপির মুদ্রণ চালু হলেও সিলেটে ছিল এর ব্যতিক্রম। ইসলামিয়া প্রেসের আব্দুল করিম ১৮৬০ সালে সিলেটে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ছাপাখানাটি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন নাগরীলিপিতে রচিত কেতাব হালতুননবী ছেপে। মুন্সী সাদেক আলী (পূর্বনাম গৌরকিশোর সেন, ৩০ বছর বয়সে ধর্মান্তর) এই […]
প্রাচীরের ছিদ্রে এক নামগোত্রহীন ফুটিয়াছে ছোট ফুল অতিশয় দীন। ধিক্ ধিক্ করে তারে কাননে সবাই – সূর্য উঠি বলে তারে, ‘ভালো আছ ভাই?’ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘উদার-চরিতানাম্’, কণিকা ষড়ঋতু ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিচিত্র ফুল ও ফসলের এই বাংলাদেশে ফুলের প্রসঙ্গ এলেই রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। দেশি-বিদেশি কত ফুল যে তিনি আমাদের চিনিয়েছেন, নামকরণ করেছেন, অচেনা […]
‘দেউস সিভ নেচুরা’ : স্পিনোজার দর্শনে ঈশ্বর, প্রকৃতি ও নৈতিকতা
প্রায় চারশো বছর আগের কথা। সতেরো শতকের আমস্টারডামের এক অভিবাসী-পল্লি। হেমন্তের এক বর্ণিল দিনে মিখাইল স্পিনোজা আর হানা ডেবোরাহ দম্পতির ঘরে এলো দ্বিতীয় পুত্র। মা হানা আদর করে সন্তানের নাম রাখলেন ‘বারুচ’। হিব্রু ভাষায় নামটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Blessed, অর্থাৎ আশীর্বাদপ্রাপ্ত। নামকরণ সার্থক হয়েছে নিঃসন্দেহে। আশীর্বাদ না থাকলে কি পৃথিবীর সেরা দার্শনিকদের একজন হওয়া যায়! বার্ট্রান্ড […]
বাণী একটা ভারি পদ। আবার মানুষের সৃষ্টির সঙ্গে এর জন্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুখের কথা বাণী। বাণী বিদ্যাদেবী সরস্বতী। যাকে আমরা বীণাপাণিও বলে থাকি। বাণী বলতে সাধারণত বুঝি কোনো গুণীজন বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির আশীর্বাদ বা জ্ঞানমূলক বক্তব্য। আর একটি প্রধান অর্থ, একজনের সারা জীবনের সারকথা, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যেমন সক্রেটিসের উক্তি : নিজেকে […]
তরু পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। শিশুবেলাটা আনন্দেই কেটেছে। যেই একটু বড় হলো, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, যন্ত্রণাটা তখন থেকে শুরু। স্কুল বন্ধ। নির্জন দুপুরে জানালার ধারে বসে তরু একটি বই পড়ছে। কিছুক্ষণ পরপর ফ্রকের ঝুল দিয়ে চোখ মুছছে। তরুর খুব কষ্ট হচ্ছে। বইটি রেখে দিলে তার কষ্ট বন্ধ হয়। কিন্তু বইটি সে রাখতে পারছে না। বরং কী […]
মোমিন সাব নাকি একলা মানুষ! বিজন, এক ভাবের মানুষ? মানুষটার ঘরভর্তি স্ত্রী, পুত্র, নাতিনাতকুর, আত্মীয়স্বজন, ভাই-বেরাদর। গুষ্টি-ইষ্টি-পড়শি। সেই মুরুব্বি একলা কেমনে? সত্য, ঘরভরা স্বজন, হইহল্লা। … কপালি মানুষ, সম্মানী মানুষ, জানেওয়ালা মানুষটা। তাঁর ভাবের দুনিয়া, জাহেরি বাতেনি সকলের মগজে আঁটে না। নুরানি সুরুতের মুরুব্বির আশেকে দিওয়ানা, মহল্লার সহজ-সরল এমনকি কূটকচালি জনমানুষ। জন্মভিটার আদি ঢাকাইয়া কুট্টিজনও […]
সকালহাঁটাটা ডিসি হিল পার্কেই সারেন অখিলেশবাবু। বাহাত্তর পেরোনো বয়স। বাহাত্তরের থুত্তুরে বুড়া – এই কথাটি অখিলেশবাবুর জন্য খাটে না। জমাটবাঁধা শরীর না হলেও পেশিগুলো ঢিলেঢালা হয়ে যায়নি এখনো। লম্বাতেও কম না তিনি। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। তার শরীরে দোষ যে নেই, তা কিন্তু নয়। ওজনটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি। সাতাত্তরের স্থলে আশি কেজি। ডায়াবেটিস একটু […]
এখানে এসেই থেমে পড়ে সামিউল। প্রায় তিরিশ মিটার দূরের বাড়িটি ইথারে অদ্ভুত নিশ্চুপ কণ্ঠে ডেকে যায়। ‘আয় সামিউল, এখানে আয়। আয় রে।’ সামিউল সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে থাকে ক-মুহূর্ত। তারপর পুনরায় সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয়। অনেক কাজ। যেতে হবে বেশ দূর। একদিন সত্যি সত্যি ওই বাড়িতে যাবে। কী আছে সেখানে? কে ডাকে তাকে? অচেনা হিম হিম […]
রাতে খাবার সেরে স্ত্রীর হাতে যত্ন করে বানানো পানটা মুখে পুড়ে নতুন কেনা সোফায় হেলান দিয়ে হোসেন আলী বলে, ‘কী, কেমন লাগতাছে, ভালা না?’ স্বামীকে দেওয়ার পর এবার নিজের পানটা মুখে চালান করে দিলো শানু। পানটা বেশ ঢাউস সাইজের হওয়ায় মুখের ভেতরের প্রায় সবটা জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল। এমনিতে পান সে বেশ সময় নিয়ে আরাম […]
মাঘ মাস সবে শুরু, শীতের কামড় ততটা নেই এবার। মানুষের চাঞ্চল্য কমতে থাকে। বাড়ে পরিযায়ী পাখিদের মেলা; বসে নানা জায়গায়, পৌষের চিরকেলে রূপ বদলে গিয়েছিল এবার। মাঘের শীত বাঘের গায়ে – এমন কথা বলার জো ছিল না এবার। হাড়কাঁপানো শীতে কাবু ছিল তামাম মানুষ। মাবুদ আর জার দিও না – এমন কথা বলছে অশীতিপর বাসমতি […]
ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! অকস্মাৎ একদলা ঘৃণা আমার গায়ে এসে না পড়লে আমি বোধহয় কখনোই এ-গল্প লিখতে বসতাম না। যদিও চার বছর ধরে সময়ে-সময়ে রাগ, ঘৃণা, অপমানের নানা ছিটেফোঁটা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পেয়ে এসেছি; কিন্তু গায়ে মাখিনি। সম্ভবত এর কারণ ছিল, মানুষ যখন নিজের মনে জানে সে অপরাধী নয়, তখন তার মনে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেকে […]
এই যে এখানে এলে বাদামের খোসা পেলে অবশিষ্ট হাতে যাকে ভাবলে বাওবাব সে একটি নৈশ ক্লাব ফুরায় প্রভাতে সকালে এমনই তোর তৈরি হয়েছিল ঘোর কীভাবে বেরোবি নতুন বর্ষ আসে ডোবা তাতে পোকা ভাসে বিধ্বস্ত ছবি পদ্ম যে অবিচল তোর কী হয়েছে বল্ কালো দেখছিস পিরিচে সাজানো বেল নাগলিঙ্গমে উদ্বেল […]
আমার মৃত্যু হবে, তবু বেঁচে থাকবো
আমার মৃত্যু হলে ভাববে সব চুকেবুকে গেল আমি আর থাকবো না কোথাও, কিন্তু আমি তো যাবো না এই লোকালয় ছেড়ে – শূন্য কফিন নিয়ে আমাকে গোর দিতে যাবে তোমরা অঝোরধারায় বৃষ্টি ঝরবে তোমাদের চোখের অশ্রু আর বৃষ্টির জলের মিলিত ধারায় সহস্র চাতক তৃষ্ণা মেটাবে, পিপাসার্ত আমি কোথাও জল খুঁজে পাবো না, কোথায় সে অবিরল ঝরনাধারা […]
অবহেলায় পড়ে থাকা কফি-কাপ আমাকে নাড়িয়ে দিলো তা শুধু স্মৃতি নয়, বরং এমন গল্প যা ফুরায় না কোনোদিন – আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এত নিঃসঙ্গ পড়ে আছো কেনো কাপ নড়েচড়ে বসলো – আর শুরু করলো অবরুদ্ধ সময়ের গল্প : সেই নারী যে ভালোবাসতো তোমাকে – সে তার ঠোঁটের তুলিতে রংধনু এঁকে ছিল কপালে ধূসর আকাশ […]
– সীমাবদ্ধ গল্পের ভেতরে থেকে জীবনের মহিমা বুঝবে না। এর জন্যে প্রয়োজন উড্ডয়ন, প্রতিকারহীন সর্বজাল ছিন্ন করা অহমিকারিক্ত এক নম্র অভিযান, অভিমান-পরিত্যাগী বেদুইনের পরম যাত্রা-পথ – বৃত্তভাঙা চাঁদের আলোর নিচে চোখ বন্ধ রাখা এক ধীমান প্রতিজ্ঞা, শূন্য হাতে শূন্য ক্রোধ শূন্য মুঠি শূন্য শোক-জাল আর বিস্তারিত অসীমের অবাধ ঠিকানা – আলো জ্বালো, আলো ফেলো […]
ইটবাঁধানো কষ্ট নিয়ে বসন্ত এলো, কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ঘরে! বসন্তের অন্তরা খুলে ঘনিষ্ঠ হবো অন্তরাত্মা শান্তি পাবে বলে আমিও সবুজের মূলধন নিয়ে নিজের হৃদয়ে সম্পাদকীয় লিখতে চেয়েছিলাম! কিন্তু এবারের বসন্তে – যে কুঁড়ি ফুটতে চাইছিল, তা আর ফুটল না – পুষ্পবাগানও হতবাক হলো! বসন্তের দিনেও আত্মকলহ ও আত্মকর্তৃত্বে […]
ঈশ্বর আছেন অথবা ঈশ্বর নেই – এ দুই এর মধ্যে ঝুলে আছি ঘড়ির পেন্ডুলাম হয়ে অথচ নিতান্ত মূর্খ এক হাটুরে বললো, দৃষ্টিগ্রাহ্য সবকিছুই বিশ্বাস করতে নেই, তেমনি অদৃশ্য যা কিছু, সবটুকু মিথ্যাও নয় আছেন অথবা নেই এর মধ্যেও ঈশ্বর খুঁজেছি, বিশ্বাসের মজবুত রজ্জুতে বন্দি ঈশ্বরের কালো চশমাটা খুলে দেখি আমারই প্রতিবিম্ব
কোথাও বোমা পড়লে কেঁপে উঠি, মনে হয়, তোমার কাছে যাওয়ার পথ কি ভেঙে পড়লো আগুনের ধাক্কায়! পথ ভরে আছে মিছিল আর মিছিলে, ক্রোধের বাইরে নয় এতটুকু জায়গাও যেখান দিয়ে আমরা হাত ধরে যাব পরস্পর। গোলাপ চাষ হচ্ছে না, চাষ হচ্ছে হত্যার, চাপাতির আঘাতে টুকরো টুকরো বিকাল তার ভেতর রান্না হয় শিশুদের আর্তনাদ। ভেঙে পড়া রাস্তা […]
কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে শীতের রোদ্দুর গায়ে মাখি। তারপর ফিরে আসি কাঠবাদাম গাছের নিচে। মিষ্টি বউদি এসে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে আমাকে দেখেন। যেন আমি কোনোদিন একা একা কপোতাক্ষপাড়ে আসতে পারি না। যেন আমি রাজনারায়ণ দত্ত আর জাহ্ণবী দেবীর নামটা শুনিনি। যেন আমি মাইকেল মধুসূদন দত্তের টানে কখনো আসিনি সাগরদাঁড়িতে। যেন আমি কলকাতা আর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে গিয়ে […]
একটুখানি পানি জমতে শুরু করেছে কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ। ডিপ কালারের একটি স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাত বারোটার কিছু আছে বাকি; এই থাকা অর্থহীন নয়। চলো, উপলব্ধি করি কুয়াশা মোড়ানো এক বাংলো বাড়ি; যার কড়িবর্গা নেপালের সেগুনের ফাইবার পূর্ণ এক দোআঁশ মাটির অনুবর্তী হতে চায়। আমাদের দেহলি দরদ উথলায় যেখানে, সেখানে এক রাত্রি কুজ্ঝটিকা […]
ভুল পথে হেঁটে হেঁটে তোমার বাগান ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি। কুয়াশার অন্ধকারে-ঢাকা দীর্ঘ পথ। কেউ জানে না, বাগানবাড়ির ঠিকানা; তবে কী সব ফুল ঝরে গেছে? এখন এক বিষবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে আছি একা সব মানুষ খুব ব্যস্ত অস্থির – আমি কি ডালভাঙা জীর্ণ-শীর্ণ মৃত গাছ – আমাকে দেখে না কেউ! এই বৃক্ষের নিশ্বাসও সর্পিলছোবল হয়ে […]
মেয়েটা সিগ্রেট খায় কজন পুরুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় সে হাওয়া থেকে সুখপ্রদ ধারণা গিলে নিচ্ছে সে হাওয়া থেকে নিকোটিনের স্বাধীনতা খেয়ে নিচ্ছে লাল রঙের লম্বা নখের ফাঁকে বেনসনের অফ হোয়াইট মুথা বেশ ভঙ্গি দেখায় অপরাহ্ণের মোরাম শুঁষে নিচ্ছে মেয়েটা পুরুষগুলো নিজেরাও সিগ্রেট মুখে দিয়ে মেয়েটার দিকে ধোঁয়া ছুড়ে দেয় অন্তত ধোঁয়া ছাড়ার ব্যাকরণে তারা […]
বকুল ফুটেছে কোথাও, বুঝি শোনা যায় পদধ্বনি বসন্তের এইখানে ধূলি-ধূসরিত পথ, বাতাস এখানে ভারী মৃদু ক্রন্দনে ঝরাপাতাদের। অবশিষ্ট কিছু শীত হচ্ছে জড়ো সন্ধ্যায় গোল হয়ে আগুন পোহাবে বলে ছোট একটা মাছ পেয়ে মাছরাঙা উড়ে গেছে কোথাও, খড়কা বিলের ধারে পানকৌড়ি বসে আছে সেই সকাল থেকে! বকুল ফুটেছে কোথাও গাছে গাছে মুকুল এসেছে আমের। শিশুরা নতুন […]
পূর্ণিমার এক রাতে সুরমার বুকে নেমে এসেছিল চাঁদ – একাকী, মায়াবী, নিঃশব্দ দীপ্তি। হঠাৎ ছায়ামানবেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূত? না, প্রেতাত্মা! আদতে ওরা চাঁদটাকেই খেতে এসেছিল সুরমার জল ঘোলা করে। শেষতক ঘোলাটে জলে চাঁদের মৃত্যু ঘটে নিভে যায় এক অপার সৌন্দর্য। সেই থেকে প্রেতের নগরে জ্যোৎস্না আসে-না আর। নাগর হেঁটে চলে অন্ধকারে – আলো খুঁজে, আলো […]
আপন নিউক্লিয়াস মধ্যমণি, নিজ বৃত্তপথ ঘোরাঘুরি বাতাস ভারি আত্মরতির রোলে চোখ অন্ধগলি, দেখে না পড়শি বটপাতাদের রংবদল স্থির নদ, ঢেউ তোলে না পাশে দাঁড়ানো ‘মরিয়মে’র নোনা জল মাথা রাখে না কেউ কারুর কোলে আমার বন্ধ্যা কবিতার খাতায় শুধু শূন্য-শূন্যের লুকোচুরি
তোর নাম কী রে, ক্ষীর বরফের গুঁড়ো গলে যাস, গলে যাস ভাঙাধান কুড়ো উড়ে যাস, উড়ে যাস তোর নাম কী রে, ছায়া অপার্থিব পৃথিবীর ভার্চুয়াল কায়া ভেসে গেছে হরীতকী ডুমুরের বন এ কী প্রবল শ্রাবণ এ কী প্রবল প্লাবন তোর নাম কী রে, মেঘ উড়ে উড়ে যাস ওটা তোর বাড়ি নয়, ভুলের আকাশ
সুকুমার বড়ুয়া : জীবন ও সৃষ্টি
আধুনিক বাংলা ছড়াসাহিত্যের এক অনন্য সাধক সুকুমার বড়ুয়া (১৯৩৮-২০২৬)। প্রায় পঁয়ষট্টি বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়াসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি। বাংলাদেশে এত দীর্ঘকাল নিবিষ্ট ছড়াসাহিত্যচর্চা আর কেউ করেননি। তবে তাঁর ছড়ার সংখ্যা বিপুল-বেশুমার নয়। সাকল্যে হাজার দুয়েকের মতো ছড়া লিখেছেন তিনি। চর্চার ব্যাপ্তিকাল বিবেচনা করলে রচনার এই পরিমাণ অনেকের তুলনায় হয়তো কম। কিন্তু তাঁর পাঠকপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়। […]
ইন্ডাস্ট্রি শব্দটার ‘শিল্প’ ছাড়া আর কোনো ভালো বাংলা জানা আছে কি আমাদের? ইংরেজিতে I Ndustry বলতে যা বোঝায়, Art বলতে তো তা বোঝায় না। তবে বাংলায় এই দুটোকেই ‘শিল্প’ শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় বলে আমাদের জাতিগতভাবে কতগুলো দ্বিধার জায়গা তৈরি হয় – আমার কথা নয়। আমি তুলে ধরছি টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পের দেড়শো বছরের ঐতিহ্যকে ধরে […]
প্রকৃতির স্বর্ণরেণুর খোঁজে বালিদ্বীপে
ভ্রমণে মানুষের জিজ্ঞাসার জট খোলে। অজানাকে জানা যায়। প্রশান্তি তো আছেই। প্রকৃতির কোন উপকরণ ভ্রমণপিপাসুকে বেশি টানে – সে-বিষয়টি ভ্রমণের স্থান নির্ধারণের নির্ণায়ক শক্তি। অনেক সময় দ্বিধাতেও জড়াতে হয় স্থান নির্ধারণে। তবে বোধকরি অসীমের প্রাণে চলা জলরাশির সমুদ্র ভ্রমণ মানুষকে টানে বেশি। সেই সমুদ্র যদি হয় মহাসমুদ্রের সৈকত, তবে কে না চাইবে তার সারথি হতে! […]
এক পুত্র বিবাহযোগ্য। তাকে কি আর দামড়া হয়ে ঘুরতে-ফিরতে দেওয়া যায়? নাসিমের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। মাতার এই ইচ্ছাটাই প্রবলভাবে সংক্রমিত হয় দাদির মধ্যে। তবে তার চেয়েও বোধ হয় বেশি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল ঘটককুল। তাদের এই আক্রমণের প্রথম লক্ষ্যবস্তু ছিল নাসিম নিজে। – কোন কন্যা ফর্সা। – কোন কন্যা সুন্দরী। – কোন কন্যা সুলক্ষণা। – […]
কসমস : পৃথিবী দর্শনের আলোকবর্তিকা
বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথম মানুষ অনুভব করল, এত অর্জন আর সমৃদ্ধি সবকিছু জলাঞ্জলি হতে পারে মহাবিশ্ব বিকাশের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে ব্যর্থ হলে এবং মানবসমাজে নিজেরা পরস্পরকে বুঝতে অসমর্থ হলে।এ-অবস্থান থেকেই কার্ল সাগান তাঁর অসাধারণ গ্রন্থ কসমস লিখলেন। কসমস-এ তিনি বললেন, বিশ্বের শুধু বিকাশোন্মুখ সৌন্দর্য রয়েছে বা এটি মানুষের পক্ষে শুধু অনুধাবন করাই সম্ভব নয়, […]
মমতাজউদদীন আহমদ : কালের দগ্ধীভূত উত্তপ্ত কথাকার
বাংলাদেশের নাট্য-আন্দোলনকে যারা গতিশীল করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মমতাজউদদীন আহমদ (১৯৩৫-২০১৯)। তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক। মঞ্চের জন্য মৌলিক ও রূপান্তর মিলিয়ে ৩০টির মতো এবং বেতার-টেলিভিশনের জন্য ৩৭টির বেশি নাটক লিখেছেন তিনি। শতাধিক নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর রচিত নাটকগুলো মঞ্চ, বেতার ও টেলিভিশনে যেমন ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে, তেমনি বাংলা সাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন […]

34 C