সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম (১৮ই জানুয়ারি ১৯৫১ সালে) সিলেট শহরে। ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আমার ছাত্র ছিল। সরাসরি, ক্লাসরুমের ছাত্র। ছাত্র হিসেবে সে যে ছিল অত্যন্ত মেধাবী সেটা বিভাগের সকল শিক্ষকই জানতেন, অজানা ছিল না আমারও। অনার্স ও এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিল অনুজপ্রতিম। ১৯৫১ সালে তার জন্ম, সিলেটে। আমি তখন চট্টগ্রামে। দেশ ভাগ হয়ে গেছে। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে স্থিতি। সরকারি এম. ই. স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি। এক যুগের ছো
মনজুর যে আমাদের কত কাছের মানুষ ছিলেন, তা নতুন করে অনুভব করতে পেরেছি চিরতরে চলে যাওয়ার আগে তাঁর এক সপ্তাহকাল হাসপাতালে থাকার সময়ে। প্রায় প্রতিদিনই অন্তরের টানে হাসপাতালে গিয়ে কিছুক্ষণ
আমি চারুকলায় পড়াশুনো আর খানিক কর্মজীবনের কারণে গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকে প্রায় বছর আট-নয়েক টানা ঢাকায় ছিলাম। তখন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে চিনতাম না। তিনি আমার চেয়ে বেশ কয়েক বছরের ছোট,
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম – যাঁকে তাঁর ছাত্র, বন্ধু ও সহকর্মীরা ভালোবেসে এস.এম.আই. বলে ডাকতেন – তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমার এক বছর সিনিয়র ছিলেন। এমন অবস্থায় যেম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দালিলিকভাবে আমার চাইতে পাঁচ বছরের ছোট। ‘দালিলিক’ শব্দটি ব্যবহার করছিএ-কারণে যে, আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একই বিভাগে পাঁচ বছরের তফাতে পড়
চলতি বছর ১০ই অক্টোবর আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন একজন যশস্বী শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজ
খুব কাছের সবাই সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে ‘মনজুরভাই’ বলতেন। আমি ‘র’টা বাদ দিয়েছিলাম। বলতাম ‘মনজুভাই’। কেন বলতাম তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ব্যাখ্যা আবার একটু আছেও। বলতে ভালো লাগত। ওই নিয়ে তিনি
মাস্ক পরে দাঁড়ালাম ১২ নম্বর বেডের সামনে। ধানমণ্ডি ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ১-এর (সিসিইউ ১) ভেতরে কর্তব্যরত কয়েকজন চিকিৎসকও পাশে দাঁড়ালেন। কোনো অধ্যাপক কিংব
আমার ঠিক মনে পড়ছে না, মনজুরভাইকে আমি প্রথম কোথায় দেখেছি, কোথায় তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। প্রায়শ বলছি, আমেরিকায় প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট হাসান ফেরদৌসের বাড়িতে, যেভাবে একজন সিনিয়র ল
সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘দুর্গাকুমার পাঠশালা’য় না পড়লেও এর প্রতি আমি কেমন এক আকর্ষণ বোধ করি। এর একটিই কারণ – এই পাঠশালা উনিশ শতকের সিলেটের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ দু
‘কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাহাড়ের মতো ভারী, আর কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাখির পালকের মতো হালকা।’ মহামতি মাও সে তুং-এর বলা এই কথাটির সত্যাসত্য জীবন-পথপরিক্রমায় হাড়েমজ্জায় অনুভব করেছি। অত্যন্ত ক
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চলে গেলেন। চলে গেলেন আক্ষরিক অর্থেই অকালে। এই যুগে ৭৪ বছর কি বিদায় বলার মতো কোনো বয়স? ৩রা অক্টোবর সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন দেশে তিনি কার্যত একা।
নব্বইয়ের দশকে, মানে ১৯৯২ সাল থেকে, আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়তে শুরু করলাম, বিভাগের তখন স্বর্ণযুগের মধ্যম পর্যায় বলা যায়। কারণ এর আগেরও খুবই উজ্জ্বল সময়ের গল্প চা
২০০৭ সালের আগস্টে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কবি পিয়াস মজিদ। সেই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছিল সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাসহ দেশ-বিদেশেরসাহি
বছর পাঁচেক আগে গল্পকার কুলদা রায়কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর শৈশবে দেখা এক গল্পকথকের কথা বলেছিলেন। সেই গল্পকথক এক বয়স্কা হিন্দু বিধবা, যাঁকে তিনি ও তাঁর সহপাঠ
মঙ্গলবার যথারীতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এসেছিলেন কালি ও কলম অফিসে। ছিলেনও অনেকক্ষণ। তারপর বেলা ১টার দিকে চলে গেলেন – যেমন সবসময় যান। এমনটাই হয়ে আসছে। আমরা জানতাম – আগামী মঙ্গলবার মনজুর আবা
এমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কর্ম ও জীবন নিয়ে বহু লেখা হয়েছে এরই মধ্যে এবং নিশ্চয়ই আরো হবে। তাঁর জীবৎকালে এবং প্রয়াণের পর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী, বন্ধু-স্বজন তাঁকে নিয়ে লিখেছে
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে শুধুই স্মৃতি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকতুল্য। আমাদের একান্ত কাছের লোক। কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন তিনি। সপ্তাহান্তে দু-একবার দেখা হতো তা
মাদুর কিংবা পিঁড়ি জলচৌকি, সে যাই হোক চেয়ারের হাতছানিতে মৌতাতে উড়ুউড়ু মন, তমাল-তরুর ছায়ায় চেয়ারে বসা মনজুর মায়ামর্মর শোনে অবাক ঝাউবনে, তেপান্তরে দূরসমুদ্রের সুবাসে গুরু-গুর্বীরা ব
নদী মরে গেলে থেকে যায় তার সামান্য কিছু রেখা সেখানেই নদী, স্মৃতি খুঁজে পাই। শুধু মানুষ রাখে না, বিস্মরণেই মুছে যায় একা একা যেন বালিয়াড়ি খাঁ-খাঁ শূন্যতা, জোছনায় জ্বলে ধু-ধু! এই ধারণার বিপরী
কিছু কিছু মানুষ আছে আলো জ্বালাতে আসেন একা একটি প্রদীপ হাতে অসংখ্য প্রদীপ প্রজ্বালনে উৎসাহ জোগাতে আসেন, স্তূপ স্তূপ অন্ধকারে নিমজ্জিত গাঁয়ের প্রান্তে কুঁড়েঘরে মাটির প্রদীপে সলতে হতে আসে
অসুন্দর সরলরেখায় আপনি কখনো ছিলেন না বিন্দু থেকে সরলরেখায় কোনো জটিলতা নেই আপনার সমুদ্র থেকে অনায়াসে আমরা পেতাম মধুর নির্যাস আলোকের ঝর্নাধারায় নিজেকে চিনতে গিয়ে যখন খুঁজে ফিরি নানা জি
এই দেশ এই বনভূমি এই নদী এই সংগীত চিরদিন আমাদের ছিল প্রিয় ভাষা? সে তো মায়ের ভাষা! চিবুকের রেখা বরাবর সবকিছু স্বাভাবিক ছিল! যেদিন থেকে বিশ্বাস আলাদা হলো ভালোবাসা বেঁকেচুরে চিরসত
তোমার চলে যাবার পর কি সকল ফুল নিয়েছে ছুটি – গন্ধ বিলাবে না বলে? আলোকারণ্যে সঘন বাতাস, আলো কি নিভে যাবে অনন্য পার্বণের কালে? তোমাকে দেখতে এসেছিল সারাদিনের বিভোর বর্ষণ অগত্যা চাঁদ উঠেছিল যামি
স্ত্রীকে ওষুধ খাওয়াবেন বলে ঠিক সাড়ে ন’টায় বেরিয়ে যাচ্ছেন যে-কোনো আয়োজন থেকে যে-কোনো কাজের সময় নিয়ন্ত্রিত নক্ষত্রের আচরণে বাঁধা হাসি নিমীলিত হাত পকেটে কিংবা আতরে রেখে হাঁটছেন মৃদু
জীবন থেকে পালিয়ে কত দূর যাওয়া যায়? ওইখানে, ঘটে কি আবির্ভাব কোনো মোহন দৃশ্যের? নিরালায় কখানো কি বাজে লোকান্তরের গান – বিশ্রুত সুরে? পেয়েছ কি তবে প্রান্তরব্যাপী শ্রেণিকক্ষের খোঁজ? তাহলে ক
১৯৫১ ১৮ই জানুয়ারি সিলেট শহরের মির্জা জাঙ্গালের মনিপুরী রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মা রাবেয়া খাতুন। ১৯৬৬ সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরী
